1. admin@dainiktalashtimes.com : admin :
জামালপুরে দুদকের মামলায় চার্জশিট দিলেও আই.সি.টি শিক্ষক আহসান উল্লাহ জুলহাসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ  - দৈনিক তালাশ টাইমস্
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
খুলনায় কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় নেত্রী হালিমা রহমান সহ গ্রেপ্তার ১৫ আদিতমারী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু পাচার নিয়ন্ত্রন করছে পুলিশের নিয়োগকৃত লাইনম্যান পোরশার নিতপুর সীমান্তে ভাসমান অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার শেরপুরে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার বিশ্বনাথে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ সিংড়ায় চলছে নিম্নমানের ইট দিয়ে পাঁকা রাস্তা নির্মাণ ও ব্যাপক অনিয়ম বগুড়া জেলার শেরপুরে তামিম হত্যা মামলায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই খু-নের রহস্য উন্মোচন ও আসামী গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জে পদ্মায় একদিনে ভাঙলো ৭ দোকান ১০টি হুমকির মুখে দিনাজপুরে ৯০ লিটার চোলাইমদ সহ ০২ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার নীলফামারীতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ০১ জন আটক

জামালপুরে দুদকের মামলায় চার্জশিট দিলেও আই.সি.টি শিক্ষক আহসান উল্লাহ জুলহাসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ 

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪
  • ২৫২ ,০০ বার শেয়ার হয়েছে

রফিকুল ইসলাম, ক্রাইম রিপোর্টারঃ

জামালপুর সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের আই.সি.টি শিক্ষক আহসান উল্লাহ ওরফে জুলহাস জাল সনদে নিয়োগ নিয়ে প্রভাষক ও উপাধ্যক্ষ পদে চাকরি করে ৪৬ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮৫০ টাকা আত্মসাতের কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে।

তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় আই.সি.টি শিক্ষক আহসান উল্লাহ ওরফে জুলহাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক। সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জামালপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

একই সঙ্গে আদালতে বিচারকের কাছে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছে দুদক। অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, আদালতের স্পেশাল পিপি (দুদক) লুৎফর রহমান রতন। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার ডোয়াইলপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ ওরফে জুলহাস জাল সনদ তৈরি করে ২০০৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজে আই.সি.টি প্রভাষক পদে চাকরি নেন।

পরে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জাল সনদে চাকরি করে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৬ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮৫০ টাকা উত্তোলন করেন তিনি।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মলয় কুমার সাহা গত বছরের ২৫ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যোগে ঘরে বসেই আসল-নকল যাচাই করা যায়। সেক্ষেত্রে এই নিয়োগের সঙ্গে জড়িতরাও দায় এড়াতে পারেন না। তাই তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুদককে অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়াও দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের জুলহাস ওরফে মোঃ আহসানউল্লাহ (ইনডেক্স D.৩০০২৮৭ প্রভাষক, আই.সি.টি) পিতাঃ মনির উদ্দিন, সাং ডোয়াইলপাড়া, থানা ও জেলা জামালপুর এবং সে স্থানীয় দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের আই.সি.টি বিষয়ের প্রভাষক।

তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি/হত্যা মামলা চলমান। মামলাটি সাক্ষী পর্যায়ে রয়েছে। দায়রা মামলা নং – ৬৩৭/১৬, (জি আর নং – ৪১২(২)১০) ধারা- ৩৪১/৩২৩/৩৪২/৩২৬/৩০৭/৩৬৪/৩০২/১১৪ দঃবিঃ ৩৪।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও একটি ফৌজদারি মামলা জামালপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে চলমান যার নং ৫৪৭ (২) ২০১৫ তারিখঃ ১৬/৮/২০১৫ (জামালপুর থানার মামলা নং – ২১, তাং ৫/৫/১৫ ইং) ধারা – ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/ দঃবিঃ ১৮৬০ এর ৩২০ উক্ত মামলায় ১ নাম্বার আসামী হিসেবে আদালত কতৃক অভিযোগপত্র (নম্বর ৩৩৭ তাং ২৯/৬/২০১৫ ইং) গৃহিত হয়ে চার্জ গঠন (Charge Frame) হয়েছে। এই মামলাটিও সাক্ষীর পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে। তৎপ্রেক্ষিতে মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ১৮/১/২০২১ তারিখ উক্ত প্রভাষককে ২৮/৮/২০১৬ তারিখ থেকে ভুতাপেক্ষভাবে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য সভাপতি ও অধ্যক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছিল।

কিন্তু কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল হামিদ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে ব্যর্থ হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্মারক নং ৩৭.০২.০০০০.১০৫.০৪.০১১.২০.৫২ তারিখ ১৮/১/২০২১ খ্রিঃ উল্লেখিত পত্রের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গভর্নিং বডি সভাপতির অসহযোগিতার বিষয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ১৮.১ ধারার ‘খ’ উপধারা মোতাবেক সরকারের নির্দেশনা প্রতিপালন না করলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি’র পদ শূন্য ঘোষনাসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্যও অনুরোধ করেছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

তিনি (স্মারক নং ৩৭.০২.০০০০.১০৫.০৪.০১১.২০.৪৯৯) ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি প্রেরণ করেছিলেন। যদিও তখন কোন এক অজ্ঞাত কারণে আব্দুল হামিদ আবারও নতুন মেয়াদে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ যেন সব সম্ভবের দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। যদিও লোক দেখানো ভাবে গত ৩০ মার্চ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে অবৈধ ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ জুলহাস ওরফে আহসানউল্লাহকে শুধু তার আইনবহির্ভূত উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনো প্রতিপালন করেননি।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন জুলহাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকায় রয়েছে।

এ নিয়ে ওই এলাকার শিক্ষা সচেতন মহলে নানামুখী আলোচনা আর সমালোচনা শুরু হয়েছে। হাজারো শিক্ষা সচেতন মানুষ বলছে, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও কলেজ কর্তৃপক্ষ বারবার এভাবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার নজির কোথাও নেই।

যে কারণে অবশ্য কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন ও সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করার জন্য সরকারি নির্দেশনাও আসে। তবুও কলেজ কর্তৃপক্ষ আহসানউল্লাহ জুলহাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই শিক্ষা সচেতন মহল আজ হতবাক।

ওই এলাকার শিক্ষা সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আসলে জুলহাসের খুঁটির জোরটা কোথায়? যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি এভাবে বারবার আইন বা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে সামাজিকভাবে এরচেয়ে দুঃখজনক আর কিইবা হতে পারে? শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবক্ষয় শুরু হওয়া মানে সমাজের অবক্ষয় শুরু হওয়া।

সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সমাজের দর্পন হিসেবে যুগ যুগ ধরে সমাজকে আলোকিত করে চলেছে। সমাজের অবক্ষয় ঠেকাতে হলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে হবে।

এটা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করতে অতিদ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
  • কপিরাইট আইন ২০১৯-২০২৩সর্বত্র সংরক্ষিত
                          কারিগরি সহায়তায়: JHBD